বৃহস্পতিবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং, রাত ১২:৪৫
শিরোনাম :
সুদানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলায় শিশুসহ নিহত ২৭ নরসিংদীতে পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য-অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ২৩৭ ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল বরিশালে ‘মা ও শিশু উৎসব’ অনুষ্ঠিত পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক বরিশাল সদর উপজেলা বিনির্মাণে ইউএনও ফরিদা সুলতানার নেতৃত্বে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম মন্ত্রিসভায় রদবদল, কে কোন মন্ত্রণালয় পেলেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে নেপালের রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হলেন হুমায়ুন কবির বরিশালে বার্তা সম্পাদক ফোরামের নতুন সভাপতি বাবলু, সম্পাদক রুবেল ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বায়েজিদ ঢাকা মেট্রোপলিটন প্রেস ক্লাবের সভাপতির মায়ের অস্ত্রোপচার রোববার: সুস্থতা কামনায় সর্বস্তরের দোয়া প্রার্থনা

নাটোরে পদ্মার পানি বেড়ে তলিয়ে গেছে চরাঞ্চল

ডেস্ক রিপোর্ট ।। নাটোরের লালপুরে পদ্মার পানি বেড়ে চরাঞ্চলের প্রায় ৫১৮ হেক্টর ফসল পানিতে ডুবে গেছে, প্লাবিত হয়েছে প্রায় ১৮ গ্রামের ৫ শতাধিক বসতবাড়ি।

বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পানি বাড়ছে। আগামী দুই দিন পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রিফাত করিম জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ঈশ্বরদী হার্ডিং ব্রিজ পয়েন্টে পানির লেভেল ১২ দশমিক ৯০ মিটার। বর্তমানে পদ্মার পানি বিপৎসীমার ৯০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সরেজমিন পদ্মার চর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, গত কয়েক দিন পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার নওশারা সুলতানপুর, চাকলা বিনোদপুর, দিয়াড়শংকরপুর, আরাজি বাকনাই, রসুলপুর ও মোহরকয়া আংশিকসহ প্রায় ১৮টি চর এলাকা প্লাবিত হয়ে বসতবাড়িসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিলমাড়ীয়া গ্রামের মুনতাজ আলী জানান, তার ৩ বিঘা জমির চালকুমড়ার খেত তলিয়ে গেছে।

আরাজি বাকনাই চরের আলাল আলীসহ একাধিক কৃষক জানান, তাদের চালকুমড়া, আখসহ প্রায় শত বিঘা জমির ফসল ডুবে গেছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে- লালপুরে বন্যায় ৪৯৫ হেক্টর আখ, ১২ হেক্টর শাকসবজি এবং ১১ হেক্টর কলাসহ প্রায় ৫১৮ হেক্টর ফসল আক্রান্ত হয়েছে।

এদিকে বন্যায় গো-খাদ্য সংকটে বিপাকে পড়েছেন চরাঞ্চলের গরু মহিষ খামারিরা। ইলশামারী চরের খামারি আরিফ মন্ডল জানান, বন্যায় গরু মহিষ নিয়ে চরম দুর্ভোগে; আছি কোথাও কোনো ঘাস নেই। সব তলিয়ে গেছে।

বিলমাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সিদ্দিক আলী মিষ্টু বলেন, গত কয়েক দিন নদীর পানি বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফসলি খেত। নদীর পানি বৃদ্ধি ফলে বন্যায় চরের অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ছে।

লালপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় জানান, আমরা চর এলাকা পরিদর্শন করেছি, পদ্মার পানি বৃদ্ধি হওয়ায় চর এলাকার বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি কমে গেলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা যাবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান জানান, ইতোমধ্যে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি এবং ইউপি চেয়ারম্যানদের নির্দেশনা দিয়েছি। পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা করার জন্য তাদের জরুরি ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে। কৃষি বিভাগকে বলা হয়েছে, চর এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের তালিকা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।